আই, টি ব্লগ
https://itnewblogbd.blogspot.com/2023/02/blog-post.html
ব্লগিং থেকে টাকা আয় করার ১২টি উপায়।ব্লগিং হল টাকা আয়ের একটি ফলপ্রসূ উপায়। বিশেষ করে একবার টাকা আসতে শুরু করলে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। আপনি যদি ব্লগিং থেকে টাকা আয়ের উপায় জানতে চান তাহলে এই ব্লগটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
আপনার জন্য এখানে ব্লগিং থেকে আয় করার বারোটি উপায় বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সূচীপত্র:
ব্লগিং থেকে টাকা আয় করার শীর্ষ উপায়
১. এফিলিয়েট মার্কেটিং
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কে ব্লগিং থেকে আয় করার একটি প্রধান কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এফিলিয়েট মার্কেটিং হল আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অন্য কোন কোম্পানির পণ্য বিক্রি করবেন। তারপর আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা প্রতিটি বিক্রয়ের জন্য একটি কমিশন উপার্জন করেন।
ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি অন্য লোকদের পণ্যের প্রচার করে অর্থাৎ আপনার ব্লগিং সাইটে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করা সম্ভব।
২. তথ্যমূলক পণ্য বিক্রি
যেহেতু আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাই এখানে আপনার নিজস্ব ব্রান্ডের কিছু পণ্য বিক্রি করে আয় করতে পারেন।
এ ধরনের কোন পণ্য হল ই-বুক, অডিও বুক,অথবা কোন অনলাইন কোর্স বিক্রি করতে পারেন।
৩. সেবা প্রধান
যেহেতু আপনি নিজের ব্লগ চালান তাই সম্ভবত আপনার এমন দক্ষতা আছে তা অন্যান্য ব্রান্ডকে তাদের লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করতে পারে।
এটি অবশ্য আপনার ব্যক্তিগত দক্ষতার উপর নির্ভর করে।
উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়াম মার্কেটিং এ দক্ষ হন,তাহলে ব্র্যান্ডগুলিকে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারাভিযান পরিচালনা করতে আপনার সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে।
এছাড়াও আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি বিষয়ে সেবা প্রদান করে উপার্জন করতে পারেন।
সরাসরি ব্লগিং থেকে আয় করার উপায়
৪.advertorials প্রকাশ করুন
advertorials হলো একটি বিশেষ ধরনের স্পন্সর করা পোস্ট যা অন্য কোম্পানির পণ্যের প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়। এটি এমন একটি পোস্ট যেখানে একটি পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়ে থাকে। যেমন পণ্যটির পরিচিতি,সুবিধা,অসুবিধা ও কি কারণে পণ্যটি একই ধরনের অন্য পণ্যের তুলনায় আলাদা তাও উল্লেখ করবেন।
এক্ষেত্রে আপনি পণ্যটির লোকাল কোন বিক্রয় কেন্দ্রে যোগাযোগ করে স্পন্সরের বিষয়ে কথা বলে নিতে পারেন।
৫. পোষ্টের মধ্যে লিঙ্ক বিক্রি করুন
আপনি আপনার পোষ্টের মধ্যে লিঙ্ক বিক্রি করতে পারেন এটি আপনাকে খুব সতর্কতার সাথে করতে হবে। এখানে সঠিক নিয়ম হলো প্রয়োজনীয় স্থানে ব্যাক লিঙ্ক করবেন যাতে পাঠক বিরক্তিবোধ না করে তাতে একটি পোস্টে একাধিক ব্যাকলিংক দিয়ে পোস্টের ইমেজ নষ্ট না হয়।
৬. আপনার নিজের পণ্যের প্রচার করুন
আপনার ব্লগ সাইটে আপনার নিজের পণ্যের প্রচার করে আয়। এজন্য আপনাকে একটি ভালো ডিজাইনের পেজ তৈরি করতে হবে।
আরেকটু কষ্ট করে আপনাকে এই পেজটিকে ভালো করে এসইও করতে হবে এবং সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে হবে।
ব্লগ সাইটে বিজ্ঞাপন দিয়ে আয়
৭. গুগল এডসেন্স থেকে আয়
গুগল এডসেন্স হলো সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক। একটি ব্লগ সাইটের প্রধান আয়ের উৎস হল গুগল অ্যাডসেন্স।
এক্ষেত্রে গুগল এডসেন্সের যে নীতিমালা রয়েছে তা মেনে আপনার ওয়েবসাইটটিকে সাজাতে হবে। এরপর আপনাকে গুগল এডসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। এটি হতে পারে আপনার ব্লগ সাইট থেকে আয়ের প্রধান উৎস।
৮. আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন স্থান বিক্রি করুন
বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একটি ব্লগ থেকে আয় করার আরেকটি উপায় হল বিজ্ঞাপনের স্থান ভাড়া দেয়া। এই পদ্ধতিতে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন গুলিকে ফ্লাট ফি বিজ্ঞাপন বলে।
"এখানে বিজ্ঞাপন দিন" পেজ তৈরি করুন।
আপনার পেইজে বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য ব্র্যান্ডগুলিকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
সক্রিয়ভাবে বিজ্ঞাপন দাতাদের কাছে পৌঁছানোর জন্যBuy Sell Ads এর ওয়েবসাইটে যোগ দিতে পারেন।
অন্যান্য ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করা
৯. গেস্ট পোস্ট লিখে আয় করুন
গেস্ট পোস্টিং আধুনিক এসইওর শুধুমাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নয়। অন্য কোন ব্লগে সঠিকভাবে একটি গেস্ট পোস্ট লিখে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি একজন ই-কমার্স ব্লগার হন তাহলে আপনার জন্য একটি সম্ভাব্য সাইট হল ই-কমার্স ইনসাইডারস। তাদের সম্পাদকীয় নির্দেশিকা পূরণ করে প্রতি ৬০০ শব্দের একটি নিবন্ধন লেখার জন্য আপনি ১৫০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন।
১০. গ্রাফিক্স ডিজাইন করে আয়
আপনি যদি একজন দক্ষ ব্লগার হন তাহলে আপনার সাইটে বিভিন্ন গ্রাফিক্স ডিজাইন করার অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। এটি আপনার লোগো ব্লগের ছবি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা ইনফোগ্রাফিক হতে পারে।
দ্রুত ব্লগিং থেকে আয় করার জন্য অন্যান্য ওয়েবসাইট মালিকদের আপনার এই দক্ষতার সার্ভিস দিয়ে অর্থ আয় করতে পারেন।
পরোক্ষভাবে ব্লগ থেকে আয় করার উপায়
১১. আপনার ওয়েবসাইট কে একটি অ্যাপে পরিণত করুন
আপনি যদি একজন দক্ষ অ্যাপ ডেভলপার হয়ে থাকেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটকে একটি মোবাইল অ্যাপে রূপান্তরিত করতে পারেন।
প্রথমে আপনি এটি ফ্রি অফার করতে পারেন পরে আপগ্রেড করার জন্য অর্থ দিতে পারেন।অনেক ব্লগাররা তাদের ওয়েবসাইটকে অ্যাপে রূপান্তরিত করে নেয়।
১২. আপনার কাস্টমাইজ থিম বিক্রি করে আয় করুন
আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি কাস্টম থিম তৈরি করে থাকেন তাহলে সেটি বিক্রি করে টাকা ইনকাম করতে পারেন।
অবশ্য সব ব্লগাররা তাদের নিজস্ব কাস্টম উন্নত থিম তৈরি করতে সক্ষম নয়। যদি আপনি করে থাকেন তাহলে সেটি বিভিন্ন মার্কেট প্লেসে বিক্রি করে আয় করতে পারেন।
শেষ কথা
আপনি কি ব্লগিং থেকে টাকা আয় করতে প্রস্তুত?
তাহলে আপনাকে প্রথমে ব্লগ থেকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় সে সম্পর্কে একটি তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।
তারপরে তালিকার উপরের দিকে একটি বিষয়ের উপর ফোকাস করে কাজ করতে থাকুন সফলতা না আসা পর্যন্ত অবিচল থাকুন।
ইনশাল্লাহ ব্লগিং করে সাফল্য আসবেই। পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।23840





0 Comments
দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন