ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে শিখব?( ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করুন।)
ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে শিখব?( ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করুন।):-
বর্তমান বাংলাদেশে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে জড়িত রয়েছে।এদের মধ্যে ৬ লক্ষ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করে নিয়মিত টাকা আয় করছে। আজকে এই পর্বে আমরা ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করছি।
ফ্রিল্যান্সিং কি?
ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে এমন একটি পেশা যেখানে আপনি মুক্তভাবে কাজ করতে পারবেন। অর্থাৎ ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে যে কোন কাজ করতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ধরুন আমেরিকাতে কেউ একটি ওয়েবসাইট অথবা ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবে সে মার্কেট প্লেসে এসে তার এই কাজটি সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে একজন ক্লায়েন্ট কে খুঁজবে,যে তার এই কাজটি করে দেবে তার বিনিময়ে সে কিছু টাকা প্রদান করবে । আপনি যদি এই কাজটি দক্ষ ভাবে করতে পারেন আপনি তার সাথে যোগাযোগ করে এই কাজটি নিয়ে নিলেন ঘরে বসে তার এই কাজটি করে দিলেন, এটি হলো ফ্রিল্যান্সিং।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা:-
ফ্রিল্যান্সিং এর অনেক সুবিধা রয়েছে নিম্নে উল্লেখ করা হলো
• কাজের স্বাধীনতা: অনলাইনে করা যায় এমন যেকোনো ধরনের কাজ আপনি বেছে নিতে পারবেন এই স্বাধীনতা আপনার রয়েছে একটি কাজ না চাইলে আপনি অন্য একটি কাজ শিখে সেটি করতে পারবেন।
• সময়ের স্বাধীনতা: আপনি যে কোন সময় ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করতে পারবেন।
• জায়গার স্বাধীনতা: যে কোন জায়গায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করা যায় শুধু একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই হল
• উপার্জনের স্বাধীনতা: আপনার কাজের মূল্য আপনি নিজেই নির্ধারণ করতে পারবেন আপনি কত টাকা উপার্জন করতে চান তত টাকাই এই সেক্টর থেকে আপনি উপার্জন করতে পারবেন ।
ফ্রিল্যান্সিং এর অসুবিধা:-
এর অসুবিধা সমূহের মধ্যে যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো হল প্রতিমাসে একই টাকা উপার্জন করতে না পারা । অর্থাৎ কমবেশি হতে পারে এছাড়াও মার্কেটপ্লেসে বিভিন্ন কারণে আপনার একাউন্ট বাদ পড়ে যেতে পারে । সব সময় সব কাজ না পাওয়া। এছাড়া যারা অতিরিক্ত কাজ করেন তাদের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে একটু সচেতন হলে এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা সম্ভব।
কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখব?:-
ফ্রিল্যান্সিং শিখতে হলে প্রথমে আপনাকে যেকোনো একটি কাজে দক্ষ হতে হবে। কোন কাজে আপনি দক্ষ হবেন সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে আমরা নিচে একটি তালিকা দিচ্ছি।
১.কম্পিউটারের বেসিক ধারণা।
২.মাইক্রোসফট ওয়ার্ড , এক্সেল ,পাওয়ার পয়েন্ট।
উপরের দুটি বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ এক্সপার্ট হওয়ার পর আপনাকে নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো থেকে যেকোনো একটি অথবা দুটি অথবা ইচ্ছেমতো কয়েকটি বিষয় বেছে নিয়ে পরিপূর্ণ এক্সপার্ট হতে হবে।
ডাটা এন্ট্রি: ডাটা এন্ট্রি মানে হল যে কেউ একজন বলল আমার আমেরিকার এক হাজার দাঁতের ডাক্তারের ইমেইল দরকার আপনি এখানে বসে সেই লিস্ট কালেক্ট করে তাকে দিলেন এটাই হল ডাটা এন্ট্রির কাজ।
ফেসবুক পেজ তৈরি : অনেক ক্লাইন্ট তাদের ব্যবসার জন্য সুন্দর ভাবে একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করার জন্য ক্লায়েন্ট খুঁজে থাকেন তাদের সেই কাজটিও আপনি করে দিতে পারেন।
ফেসবুক ফ্রি মার্কেটিং: ফেসবুক ফ্রি মার্কেটিং হল আপনার ক্লাইন্টের কোন একটি পণ্যকে টার্গেটকৃত ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে ফিরিতে পৌঁছানো।
ফেসবুক পেইড মার্কেটিং: ফেসবুক পেইড মার্কেটিং যেটাকে আমরা ফেসবুক বুষ্ট বলে থাকি অর্থাৎ কোন একটা পণ্যের ফেসবুকে টাকা দিয়ে ফেসবুক গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো হলো ফেসবুক পেইড মার্কেটিং।
ইউটিউব চ্যানেল তৈরি: মার্কেট প্লেসে ইউটিউব চ্যানেল খোলার জন্য অনেক কাজ পাওয়া যায় এ বিষয়ে দক্ষ হয়ে আপনি এটি কেউ আপনার পেশা হিসেবে নিতে পারেন
ওয়েবসাইট তৈরি: বর্তমানে এই কাজটির অনেক চাহিদা এবং ডিমান্ড রয়েছে ব্লগার কিংবা ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে সুন্দর একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারলে মার্কেটপ্লেসে আপনি ভালো টাকা উপার্জন করতে পারবেন।
লোগো ডিজাই: লোগো ডিজাইন সম্পর্কে আমরা মোটামুটি সবাই জানি এই সহজ কাজটি শিখেও আপনি মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করতে পারেন।
ফটোশপ: ফটোশপ সম্পর্কে মোটামুটি আমাদের সকলের ধারণা আছে । ফটোশপের কাজ ভালোভাবে শিখতে পারলে মার্কেটপ্লেস আপনি অনেক কাজ পেতে পারেন যার মাধ্যমে আপনি উপার্জন করতে পারেন।
মোটামুটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের বর্ণনা দেয়া হলো আপনি ফাইবার আপ ওয়ার্ক সহ মার্কেটপ্লেসগুলোতে সার্চ দিলে অনলাইন কাজ সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা নিতে পারেন।
এরপর আপনাকে মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধারনা নিতে হবে নিম্নে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মার্কেট পেলেজ সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো,
• আপ ওয়ার্ক।
• ফাইবার।
• ট্রু ল্যান্সার।
• ফ্রিল্যান্সার।
এছাড়া আরো অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। এরপর আপনাকে এ মার্কেট প্লেসগুলোতে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে।
কত টাকা আয় করতে পারবো:-
আপনি যদি উপরে উল্লেখিত যেকোন একটি কাজে খুব ভালোভাবে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন এবং মার্কেটপ্লেসগুলোতে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে খুব ভালো অবস্থান করতে পারেন, ৫০০০০ থেকে শুরু করে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন । এটি নির্ভর করে সম্পূর্ণ আপনার দক্ষতা এবং পরিশ্রমের উপর।
সবশেষ আমরা বলতে পারি একটি পরিপূর্ণ স্বচ্ছ ধারণা এবং দক্ষতা নিয়ে আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আসেন আপনাকে আর পিছে ফিরে যেতে হবে না। এই পেশা দিয়ে আপনি একটি ভালো উপার্জন করতে পারবেন এবং আপনার জীবনকে সচ্ছল করতে পারবেন।





0 Comments
দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন